চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি): ‘স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ (এসজিএসএমআরএস) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। চবি ওশানোগ্রাফি বিভাগ এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস্টার ওয়াং দা ও ডিএমডি মিস্টার মাহমুদ হুসেইন খান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার তার বক্তব্যে বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদভুক্ত বিভাগসমূহের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সমুদ্র গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্রায়ন সহজতর হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রকল্পের সমন্বয়ক ও চবি ওশানোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন মুন্না প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরে বলেন, এটি সমুদ্র গবেষণা, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বাংলাদেশের সমুদ্র-প্রযুক্তি খাতকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ডাটা প্রসেসিং, সমুদ্রের গতিবিদ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, সাইক্লোন ও সুনামি পূর্বাভাস, স্টর্ম সার্জ মডেলিং, মৎস্য খাত উন্নয়ন এবং ব্লু ইকোনমি বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে, এটি গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রধান, গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত